প্রেম, দৈহিক সম্পর্ক; অবশেষে ধর্ষণের দায়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের সাজা!

বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন রতন চন্দ্র দাস। সেখানে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন নারীঘটিত অপরাধে। উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাওয়া এই দেশটিতে গিয়ে তিনি ১২ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক এক বালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বারংবার ধর্ষণ করেন। দুই বছর আগের এই ঘটনা আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পর আজ শুক্রবার ৪১ বছর বয়সী রতন চন্দ্র দাসকে ২২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৮ ঘা বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ফ্রেব্রুয়ারি আর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি যে কোনো সময়ে এই অপকর্মটি ঘটান রতন চন্দ্র। ওই বছরের ২৩ এপ্রিল এক অচেনা পুরুষের সঙ্গে মেয়েটির ভিডিও কল এবং একটি টেক্সট মেসেজ তার মায়ের চোখে ধরা পড়ে যায়। ওই সময় মেয়েটির ব্যবহারও অসংলগ্ন ছিল। মেয়েটির মা তখন তার স্বামীকে সব খুলে বলেন। পরদিন তারা মেয়েটির মোবাইল সিজ করে সেক্সুয়াল চ্যাটিং আর নগ্ন ছবি শেয়ারের হিস্ট্রি দেখে হতবাক হয়ে যান। এভাবেই বেরিয়ে আসে সত্য কাহিনী।

মেয়েটির সঙ্গে বাংলাদেশি শ্রমিক রতন চন্দ্রের পরিচয় ট্রেনে। দাদা-দাদীর সঙ্গে ট্রেনে থাকা মেয়েটির পিছু নিয়েছিলেন রতন চন্দ্র। মেয়েটির দাদা-দাদী সেটা খেয়াল করে। এরপর তাদের উপস্থিতিতেই নাকি উভয়ের মাঝে ফোন নাম্বার বিনিময় হয়। এরপর চলতে থাকা কথাবার্তা। মেয়েটি তার বয়স ১২ উল্লেখ করলেও রতন চন্দ্র মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজের বয়স ২৫ উল্লেখ করে। তাদের প্রেম একসময় ‘শারীরিক প্রেমে’ রূপ নেয়। চ্যাটিং অ্যাপে একে অপরকে নিজেদের নগ্ন দেহের ছবি পাঠাতে শুরু করে দুজনেই।

এরপর থেকে তাদের মধ্যে অনেকবার শারিরীক সম্পর্ক হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে পাঁচবার মেয়েটির সম্মতিতেই দুজনে যৌন সম্পর্ক করে। এভাবেই চলছিল দিনকাল। কিন্তু এক পর্যায়ে মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায় মেয়েটি। মোবাইলের নগ্ন চ্যাটিংয়ের হিস্ট্রি দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় অভিভাবকদের। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দায়ের করে মেয়েটির বাবা-মা। মেয়েটি যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক নয়; তাই একে ধর্ষণ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। বিচারক আদেত আব্দুল্লাহ রায়ে বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রীতিমতো পরিকল্পনা করে এই প্রতারণামূলক এবং অনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েছে।

Comments

comments

You might also like