পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন যাচ্ছে সিরাজদিখান

পুরান ঢাকার স্থায়ী কেমিক্যাল পল্লী যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে। স্থায়ী কেমিক্যাল পল্লী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে ৫৪টি কেমিক্যাল গুদাম স্থাপনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এতে খরচ হবে ১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে এ প্রকল্প দুটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

কেমিক্যাল গোডাউনের জন্য বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ৩১০ একর জমিতে ২ হাজার ১৫৪টি প্লট তৈরি হবে। একই সঙ্গে ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।

সভায় ৩ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ’ প্রকল্পসহ প্রায় ১০ হাজার ১১৬ কোটি টাকায় ব্যয়ে সাতটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯৭১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরার পাইপলাইন নির্মান প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৭৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষনের জন্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সমাজকল্যাণ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। নীলফামারী জেলার চাড়ালকাটা নদী সোজাকরণ এবং তিস্তা নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জন্য আবাসিক এলাকার সব ধরণের রাসায়নিক কারখানা গোডাউন স্থানান্তরে স্থাপনাধীন বিসিক কেমিক্যাল পল্লীটি আরো বড় পরিসরে এবং তুলনামূলক কম জনবহুল এলাকায় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে জন্য অনুমোদিত বিসিক কেমিক্যাল পল্লীটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ৫০ একর জমিতে স্থাপনের পরিবর্তে ঢাকা-দোহার সড়ক বরাবর মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার তুলশিখালী ব্রিজ সংলগ্ন গোয়ালিয়া, চিত্রকোট ও কামারকান্দা নামক তিনটি মৌজায় মোট ৩১০ একর জমিতে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মন্ত্রী আরো জানান, যতদিন এই কেমিক্যাল পল্লী স্থাপন না হচ্ছে ততদিন পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থাপন করা হচ্ছে ৫৪টি কেমিক্যাল গোডাউন। ঢাকার কদমতলীর শ্যামপুরে এসব গুদাম নির্মাণের লক্ষ্যে ‘অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিসিআইসি।

সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments

You might also like